Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম ২০২২

আজকে ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো। কেন ট্রান্সফার করবেন, কীভাবে করবেন, কী কী পরিবর্তন করতে পারবেন? অনেকেই আবার ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন ফরম পূরন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। 

ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম ২০২২

পুরো কাজ টাকে দ্রুত সম্পন্ন করতে আপনাকে ভালোভাবে ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম যানতে হবে। Nid Gov BD এর এই পোষ্ট এ ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন হাতে কলমে দেখিয়ে দেব।তাই সবকিছু যানতে আমাদের সাথেই থাকুন। 

ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম

লেখা পড়া, চাকরি বিভিন্ন কারনে আমরা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকা, জেলা থেকে জেলায় বাসস্থান পরিবর্তন করে থাকি। চলমান এই জীবনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমাদের আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয়। কেননা আমরা অনেক সময় বর্তমান ঠিকানায় ভোটার আইডি কার্ড করে থাকি। মূলত এই কারনেই আমাদের অনেক সময় votar id card transfer এর প্রয়োজন হয়।


তো ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম শুরু করার আগে জেনে নিন কী কী পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনার NID card এ বিশাল কোন পরিবর্তন করতে পারবেন না। যেমন বিভাগ পরিবর্তন করা। তো আইডি কার্ড ট্রান্সফার করে কী করবেন? বর্তমান জেল, উপজেলা, ভোটার এলাকা সব বদলাতে পারবেন। তো দেখে নিন আপনার ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম।

ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন ফরম

প্রথমেই আপনাকে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম পুরন করতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম কে ১৩ নম্বর ফরম ও বলা হয়ে থাকে। অনেকেই এক ভোটার এলাকা হইতে অন্য ভোটার এলাকায় ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরম বলে সন্ধান করেননির্ভুল ভাবে এই তথ্য গুলো আপনাকে পূরন করতে হবে।  


ছবিটি দেখে ভালো ভাবে আবেদন ফরমটি পূরন করে ফেলুন। যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে তা হলো-


  • আবেদন ফরমের ৪ নম্বর ক্রমিকে, আপনাকে যে এলাকা থেকে স্থানান্তর হতে চাচ্ছেন সে এলাকার তথ্য দিতে হবে। যেখানে ভোটার নম্বর, ভোটার এলাকার নম্বর চাচ্ছে সেখানেই তা দিতে হবে। উপজেলা, থানা, জেলা, গ্রাম/ রাস্তার নম্বর, বাসার হোল্ডিং নম্বর সব ক্রমান্বয়ে পূরন করতে হবে। 

  • আবেদন ফরমের ৫ নম্বর ক্রমিকে, নতুন যে এলাকায় যেতে চাচ্ছেন সেখানকার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। নতুন এলাকার জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভা/ ইউ.পি. / ক্যান্টঃ বোর্ড যেটিতে আপনি স্থানান্তরিত হতে চান সেটিতে টিক দিন। এবং পাশে নাম লিখে দিন। এর পর নতুন ওয়ার্ডের নম্বর, ভোটার এলাকার নাম, নম্বর , ভোটার নম্বর, হোল্ডিং নম্বর, আপনার মোবাইল নম্বর, ডাকঘর এবং পোষ্ট কোড লিখে ফেলুন।

  • আবেদন ফরমের ৭ নম্বর ক্রমিকে, কেন স্থানান্তর করছেন তাঁর কারন লিখতে করতে হবে। ছোট করে স্পস্ট ভাবে আপনার প্রকিত কারণটিই লিখবেন।

সংশোধন ফরমের সাথে যা  যা যোগ করতে হবে

সঠিক ভাবে আপনার ভোটার সংশোধন ফরম পূরন হয়ে গেলে নিচের তথ্য গুলোর সাথে পিন করে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে। 


  • আপনি যদি শহরে থেকে থাকেন তাহলে আপনার পৌরসভার মেয়র এর  থেকে  ৫ নম্বরে দেওয়া তথ্যপ্রত্যায়িত করে নিতে হবে। আপনি যদি ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত থাকেন তাহলে চ্যায়ারম্যান দ্বারা প্রত্যায়িত করতে হবে। এছাড়া চাইলে যেকোন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা দিয়েও প্রত্যায়িত করে নিতে পারেন।

  • বাডির বিদ্যুৎ অথবা গ্যাস বিলের কপি(আপনি আসলেই সে এলাকার ছিলেন কিনা তা প্রমানের জন্য)। [বাডির যেকোণ একজন সদস্যের নামের বিল হলেই হবে।]

  • যেকোন একটি ট্যাক্স বা কর এর রশিদ। যেমন- চৌকিদারি কর রশিদ / পৌর কর রশিদ / বাড়ি ভাড়ার রশিদ। [বাডির যেকোণ একজন সদস্যের নামের রশিদ হলেই হবে।]


তো সকল তথ্য সংগ্রহ হয়ে গেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার পর আবেদন পত্রের একটা অংশ দিয়ে দিবে। সেটাকে যত্ন করে রেখে দিবেন। যখন আপনার কাজ শুরু হবে মোবাইলে মেসেজ এর মাধ্যমে জানিয় দেওয়া হবে। 


এর পর আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। যদি কাজ হয়ে যায় তা মেসেজ এ যানতে পারবেন, আর যদি কোণ তথ্য লাগে সেটিও যানতে পারবেন। এই বার বার নির্বাচন অফিসে গিয়ে সময় নষ্ট না করায় ভালো। তবে ১.৫ থেকে ২ মাস অপেক্ষার পর কাজ না হলে আবেদন পত্রের অংশটি নিয়ে অফিসে গিয়ে খুজ নিয়ে আসুন। 


যখন আপনার আবেদন মঞ্জরর হয়ে যাবে। সে এলাকার ভোটার হয়ে যাবেন। এর পর অনলাইন অথবা অফলাইন আইডী কার্ড রিইস্যুর আবেদন করতে হবে। তাহলেই নতুন ভোটার আইডি কার্ড পেয়ে যাবেন। খেয়াল রাখবেন যদি আপনার স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন না হয়ে শুধু বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন হয়। তবে সংশোধন করে ভোটার আইডি কার্ডের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন 

এতক্ষন দেখলেন ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম। উপরের পদ্ধতি অফলাইনের ছিল। অর্থাৎ আপনাকে অফিসে গিয়ে কাজ করতে হবে। তবে এই কাজ সহজে অনলাইনে ঘড়ে বসেও করা যায়। তো দেখে নিন অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন এর পদ্ধতি।


অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন এর কিছু সিমাবদ্ধতাও আছে । যেমন উপরের আবেদন পদ্ধতিতে স্থায়ী ঠিকানা , বর্তমান ঠিকানা, জেলা, উপজেলা সব পরিবর্তন করতে পারবেন। কিন্ত এই উপায়ে শুধু আপনার বাসার হোল্ডিং নম্বর, পোষ্ট অফিস বদলাতে পারবেন। তো যদি নিজের থানা বা উপজেলাতেই স্থানান্তর করতে চান, তাহলে এই স্টেপ গুলো অনুসরন করুন। 

অনলাইনে ভোটার স্থানান্তরের প্রত্যয়ন পত্রের নমুনা

 যখন অনলাইনে ভোটার স্থানান্তরের প্রত্যয়ন পত্রের নমুনা সাথে থাকে কাজ করতে সহজ হয়। তাই নিচে একটি অনলাইনে ভোটার স্থানান্তরের প্রত্যয়ন পত্রের নমুনা দেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন এর ধাপ সমূহ

মূলত ৪ টি ধাপের মাধ্যমে আপনার অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন এর কাজ সম্পন্ন হবে। ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই, কেননা খুব দ্রুতই কাজ শেষ হয়ে যাবে। তো ধাপ গুলো হচ্ছে-


  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্যাশন করা

  • অনলাইন থেকে ঠিকানা পরিবর্তন করা

  • ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন ফি প্রদান করা

  • প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করে, আবেদন পত্র জমা দেওয়া 


জাতীয় পরিচয় পত্রের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্যাশন করুন

প্রথমে আপনাকে এই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্যাশন করতে হবে। সেখানে গিয়ে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। যেমন-


  1. জাতীয় পরিচয় পত্র বা স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর

  2. জন্ম তারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে

  3. জেলা, উপজেলা ইত্যাদি তথ্য দেখে দেখে পূরন করে নিবেন


তথ্য পূরন করা হয়েগেলে আপনাকে Nid Wallet এর মাধ্যমে চেহারা ভেরিফাই করতে হবে। এখান থেকে ভোটার আইডি কার্ডের চেহারা ভেরিফিকেশন এর বিস্তারিত দেখে নিন। 

অনলাইন থেকে ঠিকানা পরিবর্তন করুন

যখন আপনার রেজিস্ট্যাশন সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন অনলাইন থেকে ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর “ঠিকানা” অপশনে ক্লিক করুন। 


এর পর উপরে ডান দিকে “এডিট”  বাটনে একটি ক্লিক করুন। আপনার সামনে নিচে দেওয়া ছবির মতো একটি পেইজ ওপেন হবে। লাল তীর চিহ্নিত বক্সে চাপ দিন যদি বর্তমান ঠিকানার ভোটার হতে চান। আর স্থায়ী ঠিকানায় হতে চাইলে নিচে থে স্থায়ী ঠিকানায় টিক দিন। 


এখন আপনার ঠিকানা অর্থাৎ পোষ্ট কোড, বাসা হোল্ডিং নম্বর, পোষ্ট কোড সব সঠিক ভাবে লিখে ফেলুন। লেখ হয়ে গেলে “পরবর্তী” বাটনে চাপ দিন। যে পরিবর্তন গুলো করলেন তা ঠিক আছে কিনা চেক কবে আবার “পরবর্তী” বাটনে চাপ দিন। 

ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন ফি প্রদান করুন

উপরের কাজ শেষ হয়ে গেলে ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন ফি হিসাবে ২৩০ টাকা প্রদান করতে হবে। যেকোন মোবাইল ব্যংকিং যেমন- 


  • বিকাশ

  • নগদ

  • রকেট

যেকোন একটি দিয়ে ফি পরিশোধ করে ফেলুন। যদি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন তাহলে কমেন্ট এ জানাতে পারেন।


প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করে আবেদন পত্র জমা দিন

সংশোধন ফি প্রদান হয়ে গেলে শুধু আবেদন পত্র জমা দেওয়ার অপেক্ষা। আপনার ঠিকানা প্রমানের জন্য কিছু তথ্য আপলোড করতে হবে। তথ্য আপলোড করার জন্য-


  • তথ্যের ধরন নির্বাচন করুন

  • স্ক্যান করা তথ্য আপলোড করুন

  • ‘“সাবমিট ” বাটনে ক্লিক করুন


আশাকরি আপনার কাজ হয়ে গেছে :) 


ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের কিছু প্রশ্নের উওর নিচে দেওয়া হলো।


প্রশ্ন: ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম কোথায় পাব?


উওর: এই পোষ্টের উপরের দিকে গেলেই সংশোধন ফরম ডাউনলোডের লিংক পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে PDF নিয়ে কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করে নিবেন।


প্রশ্ন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে কতদিন সময় লাগে?


উওর: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। তবে ক্ষেত্র বিশেষ কম বা বেশি লাগতে পারে। 

প্রশ্ন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফি কত?

উওর:  এমনিতে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের কোণ ফি লাগে না। তবে অনলাইনে সংশোধনের সময় ২৩০ টাকা ফি প্রদান করতে হয়। 

প্রশ্ন: ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরম (ফরম-১৩) কোথায় পাব?

উওর: উপজেলা নির্বাচন অফিসের নিকট যেকোন ফটোকপির দোকানে গেলেই ফরম-১৩ পেয়ে যাবেন। এছাড়া এই পোষ্টের উপরের দিকে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরম ডাউনলোড লিংক দেওয়া আছে। সেটি প্রিন্ট করেও কাজ করতে পারেন।


শেষ কথা

তো এই ছিল আমাদের ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার সম্পর্কে দেওয়া তথ্য। আশা করি নতুন কিছু যানতে পেরেছেন। যদি আপনার কাজ সহজ হয়েছে বলে মনে হয় তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে ভুলবেন না। ধন্যবাদ :)


Post a Comment

0 Comments