Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী-স্বামী স্ত্রীর কষ্টের স্ট্যাটাস 2022

স্বাগতম স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী তে। বিয়ের কয়েক মাস বা বছর পরে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে ফাটল দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে থাকে। এমন সময় স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী তাঁদের অনুপ্রানিত করতে পারে। উভয়ের মনে ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। সুখে দুঃখে একসাথে থাকতে সাহায্য করে। কষ্টের সময় যেন স্বামী স্ত্রী সাথে থাকার এবং একসাথে সমস্যা সমাধান করার সাহস পায় । সে জন্য স্বামী স্ত্রীর কষ্টের স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। 

সারা জীবন সর্ব পরিস্থিতিতে সাথে থাকার জন্যই বিবাহ করা হয়। অবস্থা যতই প্রতিকূল হোক না কেন, হাত ছাড়া যাবে না। মৃত্যু পর্যন্ত সাথে থাকার নামই ভালোবাসা এবং স্বামী স্ত্রীর বন্ধন। এমন কিছু স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী আজকে আপনাদের বলবো আশা করি ভালো লাগবে। 

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী

আজকের স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী শুনে আপনার কান্না পেতে পারে। এটি সম্পূর্ণ বাস্তবিক কাহিনী আশা করি আপনাকে উৎসাহিত করবে। যেহেতু সম্পূর্ণ স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী এখানেই দেওয়া হবে তাই এটি একটু বড় হতে পারে। আশা করি সম্পূর্ণ কাহিনী মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। 

এখানে যে নাম গুলো ব্যবহার করা হবে সেগুলো কাল্পনিক নাম। কিন্তু কাহিনী বাস্তব 🙂

শুরু হলো স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী

গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় জহির ইসলামের। পিতা খোকা মিয়া, পেশায় কৃষক। মোটামুটি ভালোই জমি আছে। সেই সাথে গ্রামের মেম্বার এবং মাতব্বর টাইপের লোক। খোকা মিয়ার ২ টি স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর পেট থেকেই জহির ইসলামের জন্ম হয়। 

জহির ইসলামের বয়স যখন প্রায় ৩ বা ৪ বছর তখন তাঁর মা মারা যায়। ঘরে আসেন সৎ মা। খোকা মিয়া যেহেতু বলবান লোক সেখান থেকেও আরও ৩ টি সন্তান হয়। জহির সাহেবের ৪ বোন ছিল। যখন জহির সাহেব সাদা প্রকৃতির বোধাই লোক। খায় দায়, কাজ করে, কোন কিছুর তেমন কোণ ইচ্ছা বা সাহস নাই। বাবা খোকা মিয়া যা বলে তাই করে। বেশি বাপের কাছেও যায় না। এককথায় নিজের মতো থাকতেই পছন্দ করে। অপর দিকে তাঁর দুই সৎ ভাই বাবুর মতো ঘড়ে বসে লাইফ এনজয় করতে থাকে। মা না থাকলে যা হয় আরকি। 

জহির সাহেব গ্রামের অন্যান্য ছেলে- মেয়েদের সাথে ঘুরাঘোরি খেলাধুলা করতে থাকে। সে সময় থেকে বিড়ি খাওয়া শিখে যায় জহির সাহেব। যেহেতু গ্রামের গৃহস্থ লোক, অবশ্যই তাঁদের গরু ছিল। খোকা মিয়ার বিড়ি খাওয়ার অভ্যাস ছিল। জহির সাহেবের সৎ মা, ঘাস কেটে আনার বিনিময়ে তাকে বাবার পকেট থেকে বিড়ি চুরি করে দিতে থাকে। সৎ মায়ের দোয়ায় জহির মিয়া  পাক্কা বিড়ি খোরে পরিনত হয়। সেই ঘটনার ৪০ বছর হয়ে গেলেও আজকে পরযন্তো বিড়ি ছাড়তে পারে নাই জহির ইসলাম। 

পেশাগত জীবনে জহির মিয়ার জীবন বৈচিত্রময়। হোমিয়প্যাথির ট্রেনিং গ্রহন করে সেটি ছেড়ে দিয়ে এসে পড়েন। যেখানে তাঁর বন্ধু যিনি একসাথে ট্রেনিং করেছেন আজকে মাসে প্রায় লাখ টাকা আয় করছেন। এর পর তাঁর চাকরি হয় রেল স্টেশান এ। সেখানে গিয়ে জুয়া খেলায় অভ্যস্ত হয়ে যান জহির মিয়া। সেখানে একটি ঘটনায় চাকরি হারায় জহির মিয়া। এর পর সার কারখানায় মোটামুটি ভালোপদে চাকরি হয়। আওয়ামিলীগ, বিএনপি এর চক্কর এবং নিজের অস্থিরতায় এই চাকরিটাও হারায় জহির মিয়া। চাকরি হারিয়ে বাড়ীতে এসে জমি বিক্রি করে জুয়া খেলা শুরু করে। এর পর ব্যংক থেকে লোন নিয়া, বিভিন্ন জনের থেকে টাকা ধার নিয়ে জুয়া খেলা শুরু করে।

বোঝতেই পারছেন জহির মিয়ার জীবন একদম চুলের মতো। এতক্ষণ আপনার সাথে জহির মিয়ার স্ত্রী বানেছা বেগমের পরিচয় করানো হয় নাই। বানেছা বেগম অন্য এলাকার মাস্টার সাহেবের ৩ মেয়ে এবং দুই ছেলের মধ্যে একজন। সে বোনদের মধ্যে বড় এবং ভাইদের থেকে ছোট। লম্বা কাহিনী ছোট করার জন্য ভাগ্যক্রমে বানেছা বেগমের পা মরা শামুক দিয়ে কেটে যায়। বিয়ে হয় তাঁদের। যেহেতু এতদিনে জহির সাহেব পাক্কা বিড়ি খোর, জুয়ারো উরাধুরা জুয়া খেলে আর ঘুরে বেড়ায়। যেহেতু বলদ প্রকৃতির এবং জোয়া খেলা নেশা তাই সৎ ভাইদের কাছে কম দামে জমি বিক্রি করেও খেলতে থাকে। এমন সময় বানেছা বেগম মেম্বার বাড়িতে আসে। গ্রামে যথেষ্ট প্রভাবশালী, এবং জমি জমা থাকায় সারা এলাকা খোকা মিয়ার নামে কাঁপত। সব কিছু ঠিক থাকলেও বানেছা বেগমের মাথায় আকাশ বেঙ্গে পড়ে। কেননা যার বাবা মাস্টার ভাই সরকারী করে, শিক্ষিত পরিবার। সে যখন জহির এর মতো অসহায় এর হাতে পড়ে মাথা নষ্ট হয়ে। 

সৎ ভাই থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশি সকলেই জহির সাহেবের শত্রু কেননা সে নিজেই নিজের শ্ত্র ছিল। বলদের মতো মানুষের প্ররোচনায় নাচতে থাকে জহির। রাতের পর রাত বাইরে কাটায়, যেটা সামনে পায় সেটাই বিক্রি করে জুয়া খেলা শুরু করে। কেউ বানেছা বেগমের কথা শুনতে রাজি নয়। কেমন অবস্থা! বানেছা বেগমের কয়েকজন সন্তান হয়ে মারা যায়। এর পর জুঁই নামের একটি মেয়ে হয় তাঁদের। দাদা খোকা মিয়ার অত্যন্ত প্রিয় ছিল জুঁই। স্রোতে গা ভাসিয়ে চোখের জলে দিন কাঁটাতে থাকে বানেছা বেগম। এত জ্বালা যন্ত্রনার কথা যানতে পেরে মাস্টার সাহেব এবং তাঁর ছেলেরা বানেছা বেগম কে নিয়ে যেতে চায় ফিরিয়ে। মানুষের স্ত্রী চলে যেতে চাইলে সে বলে তুই যা কিন্ত আমার সন্তান রেখে যা কিন্ত জহির সাহেবের মনে এতপ্রকার কঠোর ছিল সে বলেছে, “ গেলে পোনাই পান নিয়ে যা”। বানেছা বেগম ছেড়ে দেওয়ার পাত্রি নয়। আজকে পর্যন্ত তাকে একটা কাপড় কিনে দেয় নি জহির মিয়া, তাঁর পরেও কোন দিন ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা করেন না।

মাঝে মাঝে জহির বানেছার উপর এমন অত্যাচার করতো সে বেহুশ হয়ে যেত। আর মুখে বকা তো আছেই। সেই অবস্থা থেকেও চোখ বন্ধ করে এসেছেন বানেছা বেগম। একেই বলে প্রকৃত স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী। এর মাঝেই জহির সাহেবের একটি ছেলে হয়। যেদিন খোকা মিয়ার মৃত্যু হয়, সেই দিন ফজরের কালে জন্ম হয় বাকের এর।[জহির এর ছেলে] গ্রামের স্কুলে পড়তে থাকে বাকের। অবস্থা বুঝে যায় বাকের, বানেছা বেগমের একমাত্র আষার আলোতে পরিনত হয় বাকের। বানেছা বেগমের কঠোর চেষ্টায় বাকের ভালোভাবে পড়তে থাকে এবং ভালো রেজাল্ট করতে থাকে।মায়ের দুঃখ কষ্টের সাথে সাথে বাবার বকাঝকা অবহেলায় বড় হয় বাকের । বাকের বাবার মতো নেশাখোর নয়, মোবাইল কম্পিউটারে আকর্ষিত বাকের একটু ঝারি বাজ। আখের জহির সাহেবের ছেলে নেশা খোর না হলেও কষ্ট দেওয়ার কথা বলায় পারদর্শী। মানুষের কলিজা পুড়ে ফেলার মতো কথায় প্রায়শই তাঁর মুখ থেকে বের হয়। যদিও সে চেষ্টা করে মায়ের মনে কষ্ট না দেওয়ার জিনের দোষে মাঝে মাঝে গুলি বের হয়ে যায়। এই কথা গুলো কিছুটা মা বানেছা থেকেই তাঁর মাঝে এসেছে।(Nid Gov BD)

বাকের যদি তাঁর মাকে কিছু উঁচু গলায় বলতে যায়, আব্বু জহির সাহেব ঠাস ঠাস লাগিয়ে দেয়। বাবা জহির কে কিছু বললে মা ঠাস ঠাস লাগাইদেয়। বাবা মায়ের মধ্যে ঝগড়া হতে গেলে বাকের থামিয়ে দেয়। এর থেকে ভালোবাসার কাহিনী আর কি হতে পারে। ধীরে ধীরী বাকের বড় হতে থাকে আর জহির সাহেব এর আক্কেল হতে থাকে। ছেলে বড় হয়ে যাওয়ায় জহির সাহেবের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়, যেমন জুয়া খেলা ছেড়ে দেয়, মারা মারি বকা বকি নাই বললেই চলে, নামাজ পড়া শুরু করে দেয়। কিন্ত বানেছা বেগমের দুঃখ লেগেই থাকে। এর পরেও কখনো জহির কে ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা করে না, কেউ জহির এর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারে না, কোনকিছুর বিনিময়ে নয়। মনের টানে জহির সাহেবের অসতীত্ব টিকিয়ে রাখতে আজীবন পরিশ্রম করছেন বানেছা বেগম। এখনো আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল না হলেও তাঁদের মধ্যে কোণ ক্ষোভ নেই 🙂 আশাকরি এই স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী সকল আধুনিক জুড়িকে উৎসাহিত করবে। 

স্বামী স্ত্রীর কষ্টের স্ট্যাটাস

জীবনে কষ্ট আসবেই। কষ্ট নেই এমন কেউ দুনিয়াতে নেই। এই স্বামী স্ত্রীর কষ্টের স্ট্যাটাস আপনাদের কষ্টের মুহূর্তে হাত ধরে থাকতে সাহায্য করবে। তো দেখে নিন কিছু স্বামী স্ত্রীর কষ্টের স্ট্যাটাস-

চলে যাক জীবন আমি তোমায় ছাড়বো না, ভালোতোমায় বাসি প্রিয়া মৃত্যুর কাছেও হারবো না। 

যদিও তোমায় বকা ঝকা করি, মনের কোণ থেকে শুধু তোমায় ভালোবাসি।

চাইনা ভাত চাইনা কাপড়, চাই শুধু তোমার ভালোবাসা। 

মরতে হয় তবে তোমার শুকনো তাল পাতার বিছানায় শুয়ের মরবো।

আল্লাহ যেন তৌফিক দান করে তোমাকে নিয়ে সুখী থাকার। 

থাকতে চাই, তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই ।

শেষ কথা

আশা করি স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প কাহিনী আপনার ভালো লেগেছে। এই কাহিনী আরও বিস্তারিত জানতে চান তাহলে কমেন্ট করতে পারেন। সাথে থাকার জন্য ভালোবাসা 🙂

Post a Comment

0 Comments